কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মোহানী গ্রামে দুই সন্তানের জননীকে জোর পুর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিচারের দাবি করায় ধর্ষকের হাতে স্বামীকে খুনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার পায়তারা করছে প্রতিপক্ষরা বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শক্রবার গভীর রাতে মৃত আজগর আলী আকন্দের বাড়ীতে।

শনিবার ভোরে পুলিশ নিহত মালেক আকন্দের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে নিহতের ছোট ভাই আবুল কাশেম বাদী হয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

নিহতের বাড়ী উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের মোহানী গ্রামের মৃত আজগর আলী আকন্দের ছেলে দুই সন্তানের জনক মালেক আকন্দ।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আলম চাঁদ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এটা হত্যা না আত্মহত্যা তা এখন বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রির্পোট আসলে বলা যাবে।

নিহতের স্ত্রী রানু বেগম জানান, গত বুধবার বাড়ীর পার্শ্বে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ওই দিন রাতে প্রতিবেশী বদিউজ্জামান, মারফত আলী, জালাল পাঠান তার স্বামী মালেককে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে পেপসির সাথে নেশা জাতীয় ট্যাবলেট মিশিয়ে তাকে খাওয়ানো হয়। রাত আড়াইটার দিকে মারফত আলী ও জালাল পাঠানের সাথে স্বামী মালেককে রেখে সুযোগ বুঝে লম্পট বদিউজ্জামান সেখান থেকে চলে এসে তার ঘরের দরজা কৌশলে খুলে ভিতরে ঢুকে কাপড় দিয়ে হাত-মুখ বেধে জোর পুর্বক ধর্ষণ করে। এ দিকে মালেকের নেশারঘোর কেটে গেলে সে বাড়ী ফিরে ওই লম্পট বদিউজ্জামান তার ওপর পাশবিক নির্যাতন করা অবস্থায় তার স্বামী দেখতে পায়। পরে তাদের দুই জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায় বদি ক্ষীপ্ত হয়ে তার স্বামীকে মারধর করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে পরিনতি ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে মালেক রাতে ঘটে যাওয়া বিষয়টি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবগত করে এবং সুষ্ঠবিচারের দাবী জানায়। এদিকে মালেকের স্ত্রী আত্মসম্মানের ভয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার বাপের বাড়ী চলে যায়।

এলাকাবাসি জানায়, বিযয়টি এলাকায় ব্যাপকভাবে জানাজানি হলে গত শুক্রবার বিকেলে বদির বড়ভাই লুৎফর তার সহযোগীদের নিয়ে রকমানের মুদি দোকানের সামনে জনসম্মুখে মালেককে বেধড়ক মারধর করে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। শুক্রবার রাতে মালেকের ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেচাঁনো অবস্থায় তার মৃতদেহ ঝুলতে দেখে প্রতিবেশীরা থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এলাকাবাসি ও নিহতের পরিবারের লোকজনদের ধারণা, রাতে আধাঁরে ওই লম্পট বদিউজ্জামান ও তার সহযোগীদের নিয়ে তাকে হত্যা করে লাশ ঘরে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালাচ্ছে।

Share