যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের বহুতল ভবন গ্রেনফেল টাওয়ারে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭।

গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা নাকচ করে দিয়েছেন লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ কমান্ডার স্টুয়ার্ট কান্ডি।

স্থানীয় সময় বুধবার বেলা ১১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে লন্ডনের পশ্চিম অঞ্চলের ল্যাটিমার রোড এলাকার গ্রেনফেল টাওয়ারে আগুন লাগে।

আগুন লাগার সময় ২৭ তলার ওই আবাসিক ভবনের লোকজন ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। এতে বহু মানুষ ওই ভবনে আটকা পড়েন। আটকে পড়া মানুষসহ ভবনটি যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৯৭৪ সালে নির্মিত আবাসিক এই ভবন নটিংহিলের কাছে অবস্থিত। ভবনে ১২০টি আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। ভবনটির ৪র্থ তলা থেকে গভীর রাতে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে।

ঘটনার সময় আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোতে অধিকাংশ লোকজন ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন লাগার খবরে তারা ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার জন্য দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। দরজার কড়া নেড়ে এক বাসা থেকে অন্য বাসায় আগুন লাগার খবর দেন বাসিন্দারা। দ্রুত কিছু মানুষ নেমে আসতে সক্ষম হলেও অধিকাংশ লোকজন আটকা পড়েন।

খবর পেয়ে ৪০টি ফায়ার ইঞ্জিন নিয়ে প্রায় ২০০ দমকল কর্মী আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। অগ্নিদগ্ধদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে ২০টির মতো অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়। সেখান থেকে প্রায় ৫০ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে স্টুয়ার্ট কান্ডি জানান, এখনও হাসপাতালে ৩৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এ পর্যন্ত ভবনটির কতজন বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

তিনি জানান, ভবনটিতে চলমান তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।

এদিকে বুধবার অপর এক সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার কমিশনার ডেনি কটন বলেন, ভবনটিতে অনেক দিন ধরে অভিযান চালাতে হবে।

ভবনের ভেতরের অভিযান চালাতে অগ্নিনির্বাপকদের পাঠানোর আগে স্নাইফার কুকুর পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

Share