ব্যাংকে বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানতকারী বা গ্রাহকের মৃত্যুর পর তাদের মনোনীত নমিনিই পাবেন জমাকৃত টাকা। নমিনি ব্যতিত অন্য কাউকে জমানো অর্থ দিতে পারবে না ব্যাংক। সোমবার পুনরায় প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের নির্দিষ্ট ধারা অনুসরণ করতে আবারও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত ১৯ এপ্রিলও একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আমানতকারীর মৃত্যুর পর তাদের মনোনীত নমিনিই বা নমিনিগণকে আমানতের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছে রক্ষিত কোনো আমানত একক ব্যক্তি বা যৌথভাবে একাধিক ব্যক্তির নামে জমা থাকলে উক্ত একক আমানতকারী বা যৌথ আমানতকারীগণের সকলের মৃত্যুর পর তাদের মনোনীত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদেরকে আমানতের টাকা প্রদান করা যাবে।

তবে আমানতকারীগণ যেকোন সময় মনোনীত ব্যক্তির মনোনয়ন বাতিলপূর্বক অন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে মনোনীত করতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নমিনি নাবালক থাকলে উক্ত একক আমানতকারীর বা যৌথ আমানতকারীগণের মৃত্যুর ক্ষেত্রে আমানতের টাকা কে গ্রহণ করবে সে সম্পর্কে উক্ত একক আমানতকারী বা যৌথ আমানতকারীগণ নির্দিষ্ট করে দিতে পারবেন।

সম্প্রতি কোনো কোনো ব্যাংক হিসাব খেলার সময় নমিনির কাছ থেকে এমন অঙ্গীকার নিচ্ছে যে, আমানতকারী বা আমানতকারীদের মৃত্যুর পর মনোনীত নমিনি মৃত ব্যক্তির আমানতের অর্থ পাওয়ার যোগ্য বা উপযুক্ত প্রাপক হিসেবে বিবেচিত নাও হতে পারেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত এপ্রিলে এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে নমিনি আমানতের অর্থ প্রাপ্য নাও হতে পারেন এমন অঙ্গীকার নেওয়াকে ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১ (২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত) এর ১০৩ ধারার নির্দেশনার পরিপন্থী উল্লেখ করা হয়।

নমিনি কীভাবে হবে বা আমানতকারীর মৃত্যুর পর আমানতের সুবিধা কীভাবে নমিনিই পাবে তা ব্যাংক কোম্পানি আইনে স্পষ্ট করে বলা আছে। অতএব আমানতকারীর মৃত্যুর পর নমিনি আমানতের অর্থ প্রাপ্য নাও হতে পারেন, কোনো ব্যাংকই এমন কোনো অঙ্গীকার নিতে পারে না, নিলে তা হবে আইনের পরিপন্থী হবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের অঙ্গীকার না নেওয়া এবং নমিনীকে প্রাপ্য দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ (২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত) এর ১০৩ ধারায় বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানির কাছে রাখা কোনো আমানত যদি একক ব্যক্তি বা যৌথভাবে একাধিক ব্যক্তির নামে জমা থাকে, তাহলে ওই একক আমানতকারী এককভাবে বা ক্ষেত্রমতে যৌথ আমানতকারীরা যৌথভাবে নির্ধারিত পদ্ধতিতে এমন ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারবেন, যাকে আমানতকারীর মৃত্যুর পর অর্থ দেওয়া যেতে পারে। তবে আমানতকারী চাইলে যেকোনো সময় নমিনি পরিবর্তন করতে পারবে।

গত বছরের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ একটি মামলার রায়ে মৃত ব্যক্তির সঞ্চয়পত্রে রেখে যাওয়া অর্থ উত্তরাধিকারের ভিত্তিকে বণ্টনের নির্দেশ দেন। যদিও রায়টি আপিল বিভাগ পরে স্থগিত করে। কোনো একজন ব্যক্তির সঞ্চয়পত্রে রাখা অর্থ নিয়ে ওই মামলাটি হয়। সেখানে ওই ব্যক্তি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নমিনি করে যান, কিন্তু প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা বাবার রেখে যাওয়া অর্থের ওপর উত্তারাধিকার সূত্রে দাবি জানান। সেই প্রেক্ষাপটে এই রায় আসে। আদালতের এ ধরনের রায়ের পর অনেক ব্যাংক নতুন হিসাব খোলার সময় নমিনিকে টাকা নাও দেওয়া হতে পারে এই মর্মে অঙ্গীকারনামা নেওয়া শুরু করে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পরিপত্র জারি করে।

Share